চুলের যত্ন কিভাবে নিতে হয় - ঘরোয়াভাবে চুলের যত্ন কিভাবে নিতে হয়

 

chuler jotno kivabe nete hoy

আমরা যখনই কোন রূপকথার রাজকন্যাদের কার্টুন ক্যারেক্টার সিনেমায় দেখি চোখ যেন আটকে যায় তাদের চুলে৷ বিশাল লম্বা,ঘন মত চুলের অধিকারী  সিন্ডারেলা, স্নো হোয়াইট অথবা জেসমিন এর মত কে না হতে চাইবে? প্রত্যেক মেয়েই চায় স্বাস্থ্যজ্জল,ঝলমলে ও ঘন চুল। কিন্তু আমাদের দেশের আবহাওয়ার যে অবস্থা সেটি উপেক্ষা করে নিজের চুলকে সুন্দর রাখতে পারাটাই তো একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

আমরা অনেকে বিশেষ করে ছেলেরা চুলের যত্নের প্রতি খুবই অবহেলা করি , ছেলেরা আসলে জানেই নাহ চুলের যত্ন কিভাবে নিতে হয় , আবার অনেক মহিলা আছে তাঁরা সঠিক উপায়ে জানেই নাহ চুলের যত্ন কিভাবে নিতে হয় , আমরা এখানে আলোচনা করেছি আপনি কিভাবে চুলের যত্ন নিতে পারেন ।

আসুন জেনে নেই চুলের যত্ন কিভাবে নিতে হয় সামান্য কিছু টিপস ফলো করেই- 

১. ঘুম থেকে উঠেই চুল আঁচড়িয়ে নিন- 

ঘুম থেকে উঠেই চুল আচড়ানো প্রয়োজন কারন সেসময় চুলে জট লেগে থাকে। জট না ছাড়ালে চুল পরার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে৷ এছাড়াও সারারাতে আমাদের চুলের গোড়ায় যে সিবাম উৎপন্ন হয় তা চুলের জন্য খুব উপকারী, ন্যাচারাল সিবাম। চুল আঁচড়ানোর ফলে সারারাতে উৎপন্ন এ সিবাম পুরো চুলে ছড়িয়ে যায়।এছাড়াও যত বেশি চুল আঁচড়াবেন মাথার রক্ত সঞ্চালন তত বেশি হবে। এতে আপনার চুলও বাড়বে দ্রুত । তাই প্রতিদিন নিয়ম করেই মাথার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ৩-৫ ধরে মিনিট চুল আঁচড়ে নিন।

২. নিয়মিত চুল ধুয়ে নিন-

এখন বাহিরে প্রচুর ধুলাবালি আর দূষণের কারণে আমাদের চুলে সহজে ময়লা জমে যায়। ফলে অনেকেই মনে করেন প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু করা উচিৎ ।  কিন্তু এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। কারন প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে মাথার ত্বকে যে প্রাকৃতিক তেল উৎপন্ন হয় সেটাও ধুয়ে যায়। এজন্যই আপনার চুল হয়ে যায় ভীষণ রুক্ষ ও শুষ্ক।তাই বলে এই নয় যে আপনি নিয়মিত চুল ধুবেন না চুলের গোঁড়ায় জমে থাকা ময়লার কারনেই চুলে খুশকি সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনাকে অবশ্যই চুলের ধরণ অনুযায়ী সঠিক শ্যাম্পু বেছে নিতে হবে এবং নিয়ম করেই তা দিয়ে চুল ধুতে হবে।

নরমাল চুলের ক্ষেত্রে সপ্তাহে ৩বার চুল ধোওয়া যায়। কিন্তু যাদের রুক্ষ চুল তারা দুই তিন দিন পরে একবার করে চুল ধুলেই ভালো হয়।আর যাদের তেলতেলে চুল তারা ১ থেকে ২ দিন পর পরও চুল ধুয়ে নিতে পারেন। কিন্তু প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু না করলেও অবশ্যই পানি দিয়ে ভালোভাবে মাথা চুল ধুয়ে নিতে হবে যাতে স্ক্যাল্প এ জমে থাকা ময়লা ভালমত পরিষ্কার হয়ে যায়। চুলে কখনোই সরাসরি গরম পানি ব্যবহার করবেন না তাতে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়।

৩. ভেজা চুলের যত্ন কিভাবে নিতে হয় - 

চুলের যত্নে আমাদের একটি মারাত্মক ভুল হলো গোসলের পরে সাথে সাথেই ভেজা চুল আঁচড়ানো। ভেজা চুলএ চুলের গোড়া নরম থাকে ফলে সহজেই চুল ঝরে যায়। তাই শুধু ভেজা চুল নরম কোনো তোয়ালে দিয়ে মুছে নিতে হবে। কখনই শক্ত তোয়ালে দিয়ে চুলে জোরে জোরে ঘষা যাবেনা। কারন জোরে জোরে ঘষলে চুলের আগা ফেটে যায় সাথে চুলের গোড়াও নরম হয়ে যায় যার ফলে চুল পড়ার পরিমাণ ও বেড়ে যায়। ভেজা চুল তোয়ালেতে চেপে চেপে মুছতে পারেন, অথবা অবেক্ষন চুল তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়েও রাখতে পারেন।

৪. চুলের জন্য ব্যবহার করুন একই ধরনের প্রডাক্ট-

চুলের যত্ন নেওয়ার সময় অবশ্যই একই ধরনের উপাদানে তৈরি প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত।

প্রথমে আপনাকে জেনে নিতে হবে কোন প্রোডাক্টস গুলো আপনার চুলে স্যুট করছে।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় । জেনে নিন - chul pora bondo korar upay

৫.হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার কমিয়ে দিন-

যেকোনো ধরনের দেয়া তাপ আপনার চুলকে ভেঙে যেতে সহায়তা করে। আমরা অনেকেই চুল শুকানোর জন্য হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করে থাকি।চুলে এরকম হিট দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিৎ। 

অতিরিক্ত তাপের প্রভাবে আপনার  চুল জ্বলেও যেতে পারে। তাই যেকোনো আয়রন,চুল স্ট্রেটনার ব্যবহার আগে সতর্কতা অবলম্বন করুন।

৬. সঠিক বালিশের কভার বাছাই করুন-

কটনের কাপড়ের রুক্ষতা আমাদের চুলের জন্য ক্ষতিকর কারন কটনের কাপড়ের বালিশে কভারে ঘুমাল চুলে ঘষা লেগে চুল ভেঙে যেতে পারে সাথে চুলেও আগাও ফেটে যাবে।তাই আপনার উচিৎ  পাতলা কাপড়ের বালিশের কভার ব্যবহার করা।

৭. চুলে তেল দিন-

আমরা অনেকেই চুলে তেল দেইনা। কিন্তু চুলে নিয়মিত তেল না দেওয়ার অভ্যাস আপনার চুলকে করে দেয় দুর্বল ও রুক্ষ। কারন নিয়মিত তেল ব্যবহারে চুলের গোড়া মজবুত হয়। তবে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করাও উচিৎ নয় তাতে মাথায় বেশি ধুলোবালি জমতে পারে।

৮. চুলে হট ওয়েল ম্যাসাজ করুন-

চুলের পরিপূর্ণ পুষ্টির যোগান দিতে তেল ম্যাসাজ করার কোন বিকল্প নেই৷ আজকাল বাজারে নারিকেল তেক ছাড়াও আমলকির তেল, আমন্ড অয়েল, অলিভ অয়েল, ক্যাস্টর অয়েল ইত্যাদি কিনতে পাওয়া যায়। সামান্য একটু নারকেল তেল নিয়ে তাতে দু তিন ফোটা আমন্ড ওয়েল মিক্স করে হালকা গরম করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। 

৯. প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর খাবার খান-

আপনার স্বাস্থ্য কেমন তার প্রতিফলন কিন্তু আপনার চুলেও । আপনি সুস্থ থাকলে, ভাল থাকবে চুলও। তাই প্রতিদিন খেতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার। আপনার চুলের বৃদ্ধি এবং সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজন প্রচুর ভিটামিন, আয়রন এবং প্রোটিন এর মতো পুষ্টি গুন।প্রতিদিন বেশি বেশি প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহন ও প্রচুর শাক-সবজি খাওয়ার অভ্যাস আপনাত চুলকেও ভালো রাখতে সহায়তা কবে। সাথে পান করুন প্রচুর পরিমাণে পানি।

চুল সুন্দর করতে যে দামী দামী প্রোডাক্টস ব্যবহার করতে হয় এমনটাও কিন্তু নয় । শুধু প্রয়োজন আপনার নিয়মিত চুলের পরিচর্যা আর সঠিক পুষ্টিগুনের।

Post a Comment

Previous Post Next Post