কম্বিনেশন স্কিনের যত্ন | কম্বিনেশন স্কিনের যত্ন নিন সঠিক উপায়ে



গরম হোক কিংবা শীত বিভিন্ন সময়ে কম্বিনেশন স্কিনের ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতেই পারে। বিশেষ করে ভেজা আবহাওয়ার কারণে যখন ছত্রাকের সংক্রমণ বেড়ে যায় তখন দেখা যায় কম্বিনেশন স্কিনের নানা রকম সমস্যা তাছাড়াও স্কিনের কালচে ছোপ, সান ট্যান ইত্যাদি একের পর এক সমস্যা তো আছেই । কিছু নিয়ম যদি মেনে চলা যায় যেকোনো ঋতূতেই কম্বিনেশন স্কিনের নানা সমস্যা থেকে আমরা বেচে যেতে পারবো । আসুন এ ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত - সুন্দর ত্বক পাওয়ার মূলমন্ত্রই হলো পরিষ্কার - পরিচ্ছন্নতা। সারাদিন বাহিরে ধুলোবালির সাথে লড়াই করে যখন আমরা রাতে ঘুমাতে যাই তার আগে আগে মুখটাকে তো পরিষ্কার করা উচিৎ। সারা দিনের খুব খাটাখাটুনির পর রাতের বেলা শরীর সহ আমাদের ত্বকেও নেমে আসে ক্লান্তি। তাই এ সময় শরীরে যেমন দরকার বিশ্রাম ঠিক তেমনি স্কিনের দরকার কিছু পরিচর্যা। এজন্য ঘুমের আগে কম্বিনেশন স্কিনের যত্নের দিকে নজরদারি করাটাও জরুরি। ত্বককে সুস্থ ও সজীব রাখতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে স্কিনের যত্ন নেওয়া খুব জরুরী। বলা যায় দিনের যে রূপচর্চা গুলো তার চাইতে রাতের গুলোই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কম্বিনেশন স্কিনের যত্নে মেনে চলুন নিম্নোক্ত টিপসগুলি-

★ অনেকেই কোন অনুষ্ঠানে, বিয়ে বাড়িতে গেলে রাতে এসে প্রচুর ক্লান্তির কারনে মুখের মেকআপ না তুলেই ঘুমিয়ে পরেন। কিন্তু এই ভুল যে কতটা মারাত্মক হতে পারে। মেক আপ না তুলেই ঘুমিয়ে পড়লে স্কিনের লোপকূপ গুলো সারারাত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ হয়ে থাকে।যার কারনে স্কিনের মারাত্মক রকমের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই মেকআপ করে থাকলেও ঘুমানোর আগে অবশ্যই কোন ভিটামিন-ই দেয়া মেকআপ রিমুভার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে নিন। তারপর ভালোভাবে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। ★ মুখে সারা দিন প্রচুর ধুলো-ময়লা জমে। যা অনায়েসেই আপনার কম্বিনেশন স্কিনের বারোটা বাজায়ি দিতে পারে। তাই মেকআপ না করলেও রাতে ঘুমানোর আগে আপনি আপনার জন্য সঠিক কোন ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে আলতো করে মুছে নিন। এতে আপনার ত্বক থাকবে সতেজ। ★কোন কোন ক্লিনজার ইউজ করার পরে স্কিনের পিএইচ ব্যালান্স অনেক কমে যায়। যার দরুন ত্বকে শুষ্ক ভাব দেখা যেতে পারে। এমন হলে অবশ্যই ক্লিনজার বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পর মুখে কোনো সঠিক পিএইচ সমৃদ্ধ কোন টোনার লাগিয়ে নিন। এতে স্কিনের আপনার স্কিনের পিএইচ ব্যালান্স ঠিক থাকবে। ★ ঘুমানোর আগে ত্বককে ময়েশ্চারাইজার করাটাও জরুরি। তবে ইচ্ছে মত যেকোনো ময়শ্চারাইজার দিয়েই নয় বরং ভাল কোনো নাইট ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার দিয়ে হাতে নিয়ে ত্বকে কয়েক মিনিট ধরে জেন্টলি ম্যাসাজ করুন। এতে যেকোন আবহাওয়ায় আপনার স্কিনের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। ★ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মুখে কোন স্লিপিং মাস্ক লাগিয়েও ঘুমাতে পারেন। তারপর সকালে উঠে মুখ কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে এ ক্ষেত্রে যে জিনিস টা মাথায় রাখতে হবে তা হলো আপনার ত্বক এর প্রকৃতি অনুযায়ী সঠিক কোন ফেইস মাস্ক বাছাই করন। 


নিচে কম্বিনেশন স্কিন অনুযায়ী কিছু ফেস মাস্ক নিয়ে আলোচনা করা হলো-


সাধারণ স্কিনের যত্নঃ


একটি পাকা কলা চটকে নিন তাতে কিছু চালের গুঁড়ার মিশিয়ে একধরনের পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। এই পেষ্ট দুই থেকে তিন মিনিট ধরে আলতো হাতে হালকাভাবে মুখে ঘষুন।মনে রাখবেন জোরে ঘষলে আপনার স্কিনের চামড়া পাতলা হয়ে যেতে পারে। এরপর মুখ পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে কোন ময়েশ্চারাইজার বা যেকোনো জেল ধরনের কিছু লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।


কম্বিনেশন স্কিনের স্কিনের যত্নঃ


কম্বিনেশন স্কিন খুব সংবেদনশীল হয়ে থাকে তাই সেঅনুযায়ী যত্ন নেয়াটাও খুব জরুরী। বিশেষ করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে। এ ধরনের ত্বকে সব সময় ব্যবহারের জন্য বেশ উপযোগী একটি টোনার আছে, যা ঘরেই তৈরী করে রেখে দিন নিম্নোক্ত উপায়ে- 


এক কাপ পরিমাণ পুদিনার পাতা নিয়ে দুই কাপ পানিতে ছেড়ে দিন তারপর ভালো মত জ্বাল দিয়ে নিন। পানি ছেকে তা বরফ তৈরির জন্য রেখে দিন। যাতে অনেক সময় এর জন্য সংগ্রহ করতে পারেন। এবার একটি বরফের টুকরা  নিয়ে তাতে এক চামচ বেসন মিশিয়ে দুই থেকে তিন মিনিট ধরে খুব ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে নিন। পরিষ্কার করা হলে কোন জেল বা পানিজাতীয় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে ঘুমিয়ে পড়ুন।


তৈলাক্ত স্কিনের যত্নঃ


তৈলাক্ত স্কিনের যত্নে গ্রিন টি খুবই কার্যকর। যদি গ্রিন টি গুঁড়া করে রেখে দেওয়া যায় তাহলে তা তৈলাক্ত স্কিনের বিভিন্ন ধরনের  ফেসওয়াশ বা ফেস প্যাক হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। সামান্য গ্রিন টি গুঁড়ার সঙ্গে এক চামচ গোলাপজল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে দুই থেকে তিন মিনিট আলতোভাবে মালিশ করুন। তারপর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে ভুলবেন আর হ্যা খেয়াল রাখতে হবে ময়েশ্চারাইজার অবশ্যই পানিজাতীয় হতে হবে। কারন তৈলাক্ত ত্বকে পানিজাতীয় ময়েশ্চারাইজার ছাড়া আর কোনটা স্যুট করার কথা না।


শুষ্ক স্কিনের যত্নঃ


একটি ডিম ভেংগে শুধু কুসুম অংশ নিয়ে নিন। তারপর ফেটে, মুখে লাগিয়ে দুই থেকে তিন মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তারপর বেসন দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। শুষ্ক স্কিনের জন্য ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার আবশ্যক তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে মনে করে লাগিয়ে নিন।


স্কিনের যত্নের পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁটের যত্ন নেয়াটাও জরুরি। এর জন্য ঠোঁট আলতোভাবে পরিষ্কার করে এতে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে ঘুমাতে পারে ফলে ঠোঁট শুকাবে না।ঠোঁটের কালচে ভাব দূর করতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক টেবিল চামচ লেবুর রস, আধা চা-চামচ গ্লিসারিন ও আধা চা-চামচ পেট্রোলিয়াম জেলি একসঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে নিতে পারেন এতে আপনার ঠোঁটের কালো দাগ হালকা হিয়ে আসবে।এবং ঠোঁটে গোলাপি আভাও আসবে।


★ এ সাথে আপনি ঘুমোতে যাওয়ার আগে হাত-পা পরিষ্কার করে তাতে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে ঘুমাতে পারেন ফলে ঘুমের এই লম্বা সময়টাতে হাত-পায়ের ত্বকও ভালো থাকবে।এ ছাড়া ঘুমানোর আগে যদি হাত-পা পরিষ্কার করে লোশন লাগিয়ে নেন তাহলে খুব ভালো হয় আর শুষ্ক ত্বক হলে লোশনের সঙ্গে গ্লিসারিন মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন এতে করে হাত-পা অনেক নরম থাকবে।


★ মুখের পরিচর্যা করার ক্ষেত্রে চোখের আশপাশের এরিয়ার কথা কিন্তু ভুলে গেলেও কিন্তু চলবে না। যাদের চোখের তলায় কালি কিংবা সকালে ঘুম থেকে ওঠে চোখ ফুলে থাকে অনেক্ক্ষণ তাদের দরকার সঠিক পরিচর্যা।তাই রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগেই চোখের নিচে কোনো ‘আন্ডার আই ক্রিম’ দিয়ে কয়েক মিনিট জেন্টলি ম্যাসাজ করুন। আমাদের আই এরিয়ার ত্বক খুব সেন্সিটিভ হয়ে থাকে তাই এর যত্নে সঠিক প্রসাধনী চয়েজ করাটা খুব জরুরি। 


★ ঘুমাতে যাওয়ার আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করুতে পারেন কিংবা বই পড়তে পারেন কিন্তু ফোন বা ল্যাপটপ খুলে বসবেন না। 


এছাড়াও সারাদিন প্রচুর পানি পান করুতে হবে। তবে রাতের দিকে বেশি পানি না খাওয়াই ভালো কেননা তাতে ঘুম বাধাপ্রাপ্ত হয়। ঘুমের সময় কিন্তু আমাদের ত্বক রিপেয়ার মোডে থাকে। তাই যত নিশ্চিন্তে ঘুমোবেন ততই আপনার ত্বক ভিতর থেকে  প্রাকৃতিক ভাবেই সেরে উঠবে।


★ রাতে একটানা গভীর ঘুম হওয়াটা স্কিনের সুস্থতায় খুব জরুরি। তারচেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘুমাতে যাওয়ার আগের সময়টায় অন্তত দু’ ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিভাইস ( টিভি, মোবাইল, কম্পিউটার) স্ক্রিনের ক্ষতিকর আলো থেকে স্কিনকে দূরে থাকা।কারন এসব ডিভাইস স্ক্রিন থেকে প্রতিফলিত বেগুনি রশ্মি স্কিনের স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর । সচেতন না হলে কিন্তু বয়সএর আগে আগেই বুড়িয়ে যাবে আপনার ত্বক। বিশেষ করে আপনার মুখ, গলা আর চোখের চারপাশ এর চামড়ায় ভাজ পরবে।


এভাবেই ঘুমোতে যাওয়ার আগে সামান্য পরিচর্যা করলেই আপনি পেতে পারেন সুন্দর স্বাস্থ্যজ্জল ত্বক।

Post a Comment

Previous Post Next Post